করোনাভাইরাসসুজানগর

সুজানগরে করোনারোগীর মৃত্যু: চিকিৎসাব্যবস্থার অপ্রতুলতার অভিযোগ পরিবারের

সুজানগরে করোনারোগীর মৃত্যু: চিকিৎসাব্যবস্থার অপ্রতুলতার অভিযোগ পরিবারের
মৃত নূরুল ইসলামের জানাজার দৃশ্য ( ছবি সংগৃহীত)
পাবনার সুজানগরে কোভিড-১৯ এর আক্রান্ত হয়ে ‍নূরুল ইসলাম(৭০) নামক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ শরীরে করো লক্ষণ দেখা গেলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত নূরুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত নূরুল ইসলাম রোমজান মাসে যথারীতি রোজা করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে ২৮ রোজার পরে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে রোজা রাখা বাদ দেন। ইতোমধ্যে তাঁর শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে পাবনা শহরে বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বার ও ক্লিনিক-হাসপাতালে ঘুরলেও কোথাও সেবা পাননি।

বিশেষ করে করোনার লক্ষণ থাকায় ডাক্তরগণ তাঁকে চিকিৎসা দিতে সম্মত হচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় পাবনা ল্যাব এইড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাবিবুল্লাহ তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেন। তিনি ডা. হাবিবুল্লাহর প্রেসক্রিপশনেই চলছিলেন।
নূরুল ইসলাম পূর্ব থেকেই কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন।

এর মধ্যে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে ৩ জুন (মঙ্গলবার) সুজানগর হাসপাতালে নূরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়।এ রপর ৯ জুন (বুধবার) পরিবারের সদস্যদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় নূরুল ইসলাম করোনা পজেটিভ তবে তাঁর স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। এর মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা বেড়ে গেলে বিভিন্ন জায়গাতে যোগাযোগ করা হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে পারিকারিক সূত্র জানিয়েছে। পাবনাতে শুরু হওয়া বিশেষায়িত করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র কমিউনিটি হাসপাতালেও চিকিৎসার অপর্যাপ্ততা রয়েছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করে।

এমনকী জেলা সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
গতকাল রাতে নূরুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস সুজানগর উপজেলার হাটখালি ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত নূরুল ইসলামের জামাতা মালিফা সেলিম রেজা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ফারুক রেজা হাবিব বলেন, “আমার শ্বশুরের কিডনি রোগ ছিল।

তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তবে করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ চিকিৎসকই চিকিৎসা দিতে সম্মত হননি। একজন মুমূর্ষু রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে এটা খুব দুঃখজনক।” তিনি চিকিৎসাসেবার এই গলদ দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন। চিকিৎসকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিভিল সার্জন মেহেদি ইকবাল এ বিষয়ে বলেন,“করোনা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য উপজেলাভিত্তিক মেডিকেল টিম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন নিজ নিজ উপজেলা মেডিকেল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। এ ছাড়া কোনো রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা মাত্রই আমরা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই।

হাসপাতালে ইতোমধ্যে করোনারোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টার দ্বারা মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ ধরনের অভিযোগ দুঃখজনক।”

সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন

এই ধরনের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close