লেখালেখি

অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড

লেখনীতে: লুৎফুন নাহার তিথি

ব্লাইন্ডফোল্ড শব্দটার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় “দেখতে অপরাগ হওয়া,চোখ বেঁধে দেওয়া” এমন কিছু। কিন্তু আমরা যে এক অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ডের দ্বারা অন্ধ হয়ে আছি আমরা আদৌ তা কতোটুকুই উপলব্ধি করতে পারি!

দুনিয়াটা এখন অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড দ্বারা আক্রান্ত। এই অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড আমাদের নয়ন জোড়াকে নয় বরং বিবেককে অন্ধ করে রেখেছে। এক টুকরো কাপড় দিয়ে আপনার চোখদ্বয় যখন ঢেকে রাখা হয় তখন আপনি অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না। কিন্তু যখন আবার চোখ থেকে কাপড় টুকু সরে ফেলা হয় তখন আবার সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পান।

অন্যদিকে,বিবেককে কোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয় না,আপনি সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পান। তারপরেও ও যে আপনি অন্ধ আপনি জানেন কি? আপনার সামনে সঠিকটা উপস্থাপিত হওয়ার পরেও আপনি ভুলটাই গ্রহণ করছেন বারংবার। আপনি মাকাল ফলের ভিতরের অবস্থা জানা থাকা সত্ত্বেও মাকাল ফলের বাহিরের চাকচিক্যের মায়ায় পড়ে যান‌।

একটা দৃশ্যমান ব্লাইন্ডফোল্ড আর আরেকটা অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড। যেমন এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার চাকচিক্য হচ্ছে মাকাল ফল,যার উপর দেখে আকৃষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত ভিতরের দুর্গন্ধময় ভরাট টুকুই প্রাপ্তি হিসেবে জুটে। কাপড়ের ব্লাইন্ডফোল্ডটিকে যখন আপনার চোখে লাগানো হয় তখন আপনি তা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু বিবেক কখনো এই অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড অনুভব করতে পারে না,যার কারণে আমরা বুঝতেই পারিনা যে এই আকর্ষণ শুধু একটা মায়াজাল। অর্থাৎ অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড সয়তানের একটা মায়াজাল। এর বিরূদ্ধে লড়াই করা অনেক কঠিন আবার অনেক সহজ। আপনি চাইলে এই লড়াই কঠিন হতে পারে আবার সহজ ও হতে পারে।

অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ডের অন্যতম উপাদান এর মধ্যে একটি হচ্ছে বর্তমান সোশাল মিডিয়া। দিনশেষে একবার ভেবে দেখুন এই অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড আপনাকে কতোটুকু আকড়ে ধরে পাপের বোঝা বাড়াচ্ছে! জোর করছি না। যেখানে এতো সময় এই সোশাল মিডিয়াতে ব্যয় করছেন,সেখানে দুই-এক মিনিট এটা নিয়ে ভাবলেন না হয়।‌

এই ব্লাইন্ডফোল্ড বেশিরভাগ সময়ই আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিবেককে চুষে নেয়। অন্তরকে কঠিন করে তুলে। তবে আপনি চাইলেই নিজের বিবেককে এই ব্লাইন্ডফোল্ড থেকে ছাড়িয়ে নিতে পারেন। ঐ যে বললাম “আপনি চাইলে সহজ আবার আপনি চাইলে কঠিন ও।” তবে অবশ্যই লড়াই করতে হবে। শারীরিক লড়াইয়ের এখানে কোনো ভুমিকা এ নেই। মানসিক শক্তিটাই এই লড়াইয়ে জেতার মূখ্য শর্ত। জীবনে বেশিরভাগ মানুষ শারীরিক লড়াইয়ের কারণে নয় ,মানসিক লড়াইয়ের কারণে হার মেনে নেয়। কেউ কেউ মুক্তির উপায় হিসেবে বেঁচে নেয় অনাকাঙ্ক্ষিত আত্নহত্যা কে। কিন্তু আত্নহত্যাতে কে কোন কালে কি পেয়েছে? কেউই কিছু পায়নি।এবার বুঝেন এই অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ড মানুষকে কতোটা আগ্রাসন করলে মানুষ বাধ্য হয় আত্নহত্যা করতে।যেখানে সে জানে আত্নহত্যা করে কিছুই মিলবে না, সেখানে সে কি করে আত্নহত্যা কে মুক্তির উপায় হিসেবে ভেবে নেয়! এটাই হচ্ছে অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ডের আগ্রাসনে পড়ে পচে যাওয়া বিবেকের সাথে শরীরের শেষ মৃত্যু।

উপসংহার বলবো এই অদৃশ্য ব্লাইন্ডফোল্ডে আমাদের আশে পাশে অনেকেই বন্দী হয়ে আছে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবারকে উচিৎ তাদেরকে সহায়তা করা। এই সহায়তার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। আপনার একটু মানসিক সাপোর্ট এ পারে তাদেরকে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনকে শেষ হওয়া থেকে বাঁচাতে।

সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close